বাংলা টেলিভিশনের জনপ্রিয় মুখ সঙ্ঘমিত্রা ভট্টাচার্য, যাঁকে দর্শক এখনও ‘কুমকুম’ নামেই বেশি মনে রাখেন, সম্প্রতি এক পুরনো অভিজ্ঞতা সামনে এনে আলোচনায়। এই মুহূর্তে তাঁকে দেখা যাচ্ছে ‘সংসারের সংকীর্তন’ ধারাবাহিকে। এর আগে তিনি অভিনয় করেছিলেন ‘গৃহপ্রবেশ’ সিরিয়ালে, যা প্রযোজনা করেছিলেন রাজ চক্রবর্তী। সেই কাজের সময় নাকি তাঁকে একটি অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মধ্যে পড়তে হয়েছিল। বর্ষীয়ান অভিনেত্রীর দাবি, সেটে প্রয়োজনের সময়ে সাহায্য চাইলেও পাশে কাউকে পাননি। ঘটনাটি তাঁর মনে গভীর আঘাত দিয়েছিল বলেও জানান তিনি।
বহুদিন পরে সেই অভিজ্ঞতা নিয়ে খোলাখুলি কথা বলেন সঙ্ঘমিত্রা। অভিনেত্রী জানান, “‘গৃহপ্রবেশ’ গল্পটা নিউ ইয়র্ক থেকে শুরু হয়েছিল। তার পরে গল্পের মোড় ঘোরে।” গল্পের পরিবর্তনের সঙ্গে তাঁর চরিত্রের লুকেও বদল আনা হয়। সেই সময় পোশাকেও নতুনত্ব আনা হয়েছিল। সঙ্ঘমিত্রার কথায়, “সেখানে আমার লুকেও বেশ কিছু পরিবর্তন আসে। যেখানে আমার পোশাকেও পরিবর্তন আসে।” নতুন সাজে তাঁকে এমন একটি ব্লাউজ় দেওয়া হয়েছিল, যার বোতাম ছিল পিঠের দিকে। তিনি বলেন, “নতুন লুকে বলা হয়েছিল, ব্লাউজ়ের বোতাম পিঠের দিকে হবে।” এই ধরনের পোশাক একা পরা সম্ভব নয় বলেই তিনি জানান।
সঙ্ঘমিত্রা বলেন, “এ বার ব্লাউজ়ের বোতাম পিঠে হলে তো, কারও না কারও সাহায্য লাগবেই।” এক দিন শুটিংয়ে যাওয়ার আগে তৈরি হওয়ার সময় তিনি সেটে দায়িত্বে থাকা কয়েকজনের কাছে সাহায্য চান। অভিনেত্রীর দাবি, “এমনই এক দিন যখন শটে যাওয়ার আগে তৈরি হচ্ছি, তখন ব্লাউজ় পরার জন্যে সাহায্য চেয়েছিলাম সেটের এগ্জ়িকিউটিভ প্রোডিউসার এবং অন্যদের থেকে। কিন্তু কেউ আমাকে সাহায্য করেননি।” এই ঘটনায় তিনি ভীষণ কষ্ট পেয়েছিলেন। তাঁর কথায়, “খুব খারাপ লেগেছিল। অস্বস্তিতে কেঁদেছিলাম।” একজন প্রবীণ শিল্পী হিসেবে এই অভিজ্ঞতা তাঁকে মানসিকভাবে নাড়া দিয়েছিল বলেও মনে করা হচ্ছে।
ঘটনার পরে বিষয়টি জানাতে তিনি প্রযোজক রাজ চক্রবর্তীর সঙ্গেও যোগাযোগের চেষ্টা করেছিলেন। সঙ্ঘমিত্রার অভিযোগ, “রাজ ফোন করে আমার কথাই শুনতে চায়নি।” তিনি আরও বলেন, “আমার মেয়েও তখন ছিল পাশে। উল্টে খালি আমাকে বলে গিয়েছে, দিদি, কেউ তোমাকে অসম্মান করেনি। প্লিজ় কাজ করে দাও।” ওই ঘটনার পরেও পরিস্থিতি সহজ হয়নি বলে দাবি অভিনেত্রীর। তাঁর কথায়, “ব্লাউজ়ের ওই ঘটনার পরে আমাকে বেশ কিছু দিন শুটিংয়ের ডেটও দেওয়া হয়নি।” পরে এক দিন ডেকে একসঙ্গে অনেক দৃশ্যের কাজ সেরে নেওয়া হয়েছিল বলেও জানান তিনি।
আরও পড়ুনঃ “সহজের জন্য আমাকে সত্যিটা জানতে হবে…এত লোক, এত বড় ইউনিট, তাও কীভাবে আমার ছেলেটা চলে গেল?” অভিনেতা রাহুলের অরুণোদয়ের মৃ’ত্যুর এক মাস পর অবশেষে মুখ খুললেন তাঁর মা শ্যামলী দেবী! ইন্ডাস্ট্রির দিকে আঙ্গুল তুলে, কান্না ভেজা চোখে কী বললেন তিনি?
সঙ্ঘমিত্রা আরও জানান, ধারাবাহিকের এগ্জ়িকিউটিভ প্রযোজক রাত গভীর হওয়ার পরে এই ঘটনার জন্য দুঃখপ্রকাশ করেছিলেন। তবে তাঁর অভিযোগ, সামনে থেকে আর কখনও বিষয়টি নিয়ে কথা বলা হয়নি। অভিনেত্রী বলেন, “পরে সেটে অনেক বার রাজ এসেছে। প্রত্যেকের সঙ্গে কথা বলেছে। কিন্তু কোনও দিন আমাকে ডেকে কথা বলেনি।” তিনিও আর কথা বলার প্রয়োজন মনে করেননি। তাঁর মন্তব্য, “আমিও মনে করিনি কথা বলার দরকার আছে বলে। তাই আমিও এড়িয়ে গিয়েছি। আমার রাজকে খুব তুচ্ছ বলে মনে হয়েছে।” বর্তমানে অন্য ধারাবাহিকে কাজ করছেন সঙ্ঘমিত্রা এবং সেখানে সহকর্মীদের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা খুব ভাল বলেই জানিয়েছেন এই বর্ষীয়ান অভিনেত্রী।






